Newsevent24.com

বাংলাদেশ

যৌন নির্যাতনের পর ছাত্রকে হত্যা করলো মাদ্রাসা শিক্ষক

rabbi savarসাভারে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষকের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বী। এ ঘটনায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসেন।

অর্থের অভাবে গার্মেন্টস কর্মী কালাম ও নাহারের একমাত্র ছেলে রাব্বীকে হাফেজী পড়াশোনা করতে ভর্তি করেন মাদ্রাসায়। ৩ জুন হঠাৎ ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে কালাম জানতে পারেন, তার একমাত্র সন্তান আর বেঁচে নেই।

প্রথম পর্যায়ে এটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা হলেও, ঘটনার দুইদিন পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে রাব্বীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি। এরপর দোষী শিক্ষককে আটক করে আদালতে পাঠানো হলে, সেখানেই সে হত্যার পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।

আশুলিয়া থানার ওসি শেখ বদরুল আলম বলেন, মোশাররফ তার অপরাধ স্বীকার করেছে। মোশাররফের স্বীকারক্তি অনুযায়ী, রাব্বীকে যৌন নির্যাতনের পরে সে এই ঘটনা তার বাবা মা এর কাছে প্রকাশ করার কথা বললে, মোশাররফ তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন।

এঘটনার পর অনেক অভিভাবকই গাজিরচট উত্তরপাড়ার ইসলামীয়া হাফিজিয়া নামের ওই মাদ্রাসা থেকে তাদের সন্তানদের সরিয়ে নেন।

আশুলিয়ার হাফিজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গাজী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার সব ছাত্র চলে গেছে। তাদের বাবা-মাকে অনেক বুঝাতে চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করছেন।

৪ জুন রাব্বি হত্যায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা হয়। পুলিশ জানায়, সব ধরণের তদন্তে শিক্ষক মোশাররফের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা।

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/১৩ জুন,২০১৩/১৪:১৫/এনসাজওয়াল

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Get our toolbar!